বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি নীতিমালা ও কৌশলপত্র : National School Meal Program Policy and Strategy Paper 2024

জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি, স্কুল মিল কর্মসূচি, স্কুল মিল নীতিমালা ও কৌশলপত্র, জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাংলাদেশ, School Meal Program, national School Meal Program, bangladesh School Meal Program, bangladesh National School Meal Program, bangladesh school meal 2024, school meal bd, school meal bd 2024,

প্রতিপাদ্য

“পুষ্টিকর স্কুল মিল সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ”

উদ্দেশ্য

১। দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করা জরুরি। পিছিয়ে পড়া এলাকাসহ গ্রামীণ সকল বিদ্যালয়ে
দুপুরে খাবার ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

২। পথশিশু ও অন্যান্য অতিবঞ্চিত শিশু: এদেরকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনার এবং
ধরে রাখার লক্ষ্যে বিনা খরচে ভর্তির সুযোগ, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ,
দুপুরের খাবার ব্যবস্থা এবং বৃত্তিদানসহ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ে
তাদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার এবং প্রাথমিক
স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগসহ সমৃদ্ধ চিকিৎসা কেন্দ্র থাকবে।

জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল, বাংলাদেশ

পুষ্টি কর্মসূচি যেমন স্কুল ফিডিং এবং চরম পুষ্টিহীনতার শিকার শিশুদের জন্য নিরাময়মূলক (থেরাপেটিক) খাদ্য প্রদান অব্যাহত থাকবে এবং এতে প্রস্তাবিত মাতৃসংঘের (মাদার’স ক্লাব) অংশগ্রহণের ব্যবস্থাও থাকবে। সামাজিক সেবা প্রদানের পদ্ধতি সুরক্ষা বেষ্টনী থেকে অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিস্তৃত করা প্রয়োজন হবে, এবং একে জীবনচক্র পদ্ধতির সাথে যুক্ত করে এতে কর্মসংস্থান নীতি ও সামাজিক বিমা ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই সাথে, একে আধুনিক নগরভিত্তিক অর্থনীতির চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। (ঘ. বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ) জীবনচক্র ঝুঁকিসমূহ বিবেচনায় কর্মসূচি সংহতকরণ: জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা

কৌশল বিদ্যমান কর্মসূচিসমূহকে অল্প কয়েকটি অগ্রাধিকার স্কিমে একীভবনের মাধ্যমে সেগুলিকে জীবনচক্র ব্যবস্থায় রূপান্তরে সহায়তা করবে। এটি সম্ভব হবে অগ্রাধিকার স্কিমসমূহের পরিধি পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করে।

জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলে স্কুল মিল কার্যক্রমকে শিশুদের জীবনচক্রের ঝুঁকিসমূহ বিবেচনার অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পাইলট ভিত্তিতে স্কুল চলাকালীন খাবার প্রদান (স্কুল মিলস) কর্মসূচি পরিচালনা করে। এ কর্মসূচির মূল্যায়ন ফলাফল থেকে দেখা গেছে শিশুরা এ কর্মসূচি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পুষ্টি সুবিধা পেয়ে থাকে। এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। খাবার তৈরিতে মাতৃসংঘকে (মাদার্স ক্লাব) সম্পৃক্ত করার সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হবে।

শিশুদেরকে প্রতিবন্ধী সুবিধা, বিদ্যালয়ে খাদ্য সুবিধা, ও এতিমদের জন্য কর্মসূচি
সুবিধা প্রদান করা হবে। এছাড়াও, পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য তাদের এই অবস্থার
জন্য দায়ী অভিভাবকদের নিকট থেকে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণে আইনী
সুরক্ষা প্রদান করা হবে।

৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নের উপায় হিসেবে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর একটি অন্যতম কৌশল হলো: যেখানে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু আছে সেখানে ভালো ডায়েটরি অভ্যাস প্রবর্ধন এবং সংরক্ষণ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামকে শিক্ষা খাতে সরকারের প্রবর্তিত অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তুতি ও পরবর্তী কর্মসম্পাদন এবং বিদ্যালয়ে শিশুদের কৃতিত্বের ওপর প্রারম্ভিক শৈশব উন্নয়ন এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা একটি শক্তিশালী ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ বছরের বেশি বয়সের শিশুদের জন্য ১ বছরের প্রাক-প্রাথমিক কর্মসূচি তৈরি করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। শিশুদের অপর্যাপ্ত পুষ্টি সমস্যার সমাধান করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১

জাতীয় স্তরে অবশ্যকরণীয় হিসেবে স্কুলে খাদ্যসরবরাহ-কর্মসূচি চালু করলে বিদ্যালয়গামী ছেলেমেয়েদের পুষ্টিকর খাদ্যের ঘাটতি পূরণে সাহায্য হবে। এর জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা রাষ্ট্র করবে এবং স্থানীয় জনগণ তদারকি করবে বাস্তবায়নের।

জাতীয় শিশু নীতি ২০১১

শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় খাদ্যনীতি ২০০৬

উদ্দেশ্য-৩: সকলের (বিশেষত: নারী ও শিশুর) জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি বিধান করা।

জাতীয় পুষ্টিনীতি ২০১৫

পুষ্টি কেন্দ্রিক বা প্রত্যক্ষ পুষ্টি কার্যক্রম প্রসারে প্রণীত কৌশলসমুহ:
কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি যেন যথাযথ হয় এবং তারা কাক্সিক্ষত উচ্চতা ও ওজনসহ পূর্ণ বয়স্ক মানুষ হিসেবে বিকাশ লাভ করতে পারে তার জন্য তাদের পর্যাপ্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুষ্টিশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা।

দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা ২০১৬-২০২৫

বাংলাদেশ অনুপুষ্টি কণা ঘাটতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কৌশলপত্রের সুপারিশ বাস্তবায়নে খাদ্যগ্রহণ নির্দেশিকা ও খাদ্যে অনুপুষ্টি কণা সমৃদ্ধকরণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, কিশোরী এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিবেচনায় আনা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে পুষ্টির বিষয়গুলো সম্পৃক্তকরণের জন্য বহুবিধ পন্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্থায়ীভাবে বা দুর্যোগের কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দুস্থ’ জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য সহায়তা (অনুপুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যসহ) এবং নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রম ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি ইত্যাদি। কর্মসূচিতে অনুপুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য বিতরণের সঙ্গে পুষ্টি শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম সম্পৃক্ত করা। গ্রাম ও শহরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মহল্লায় ওজনাধিক্য ও স্থুলতা হ্রাসকল্পে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামকে উৎসাহিত করা। স্কুল হেল্থ কর্মসূচি, স্কুল ফিডিং ও স্কুল গার্ডেনিং-এ সহায়তা প্রদান।

জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯

গত ১৯ আগস্ট ২০১৯ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিতে¦ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ
সভায় জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯ অনুমোদন করা হয়।

প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার (ক্যালরি) ন্যূনতম ৩০% স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে, যা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩-১২ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

অর্ধ-দিবস স্কুলের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রয়োজনীয় অনুপুষ্টি-কণার চাহিদার ন্যূনতম ৫০% স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় খাদ্যগ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির ১০-১৫% প্রোটিন থেকে এবং ১৫-৩০% চর্বি থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। তবে স্যাচুরেটেড বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ ১০%-এর চেয়ে কম রাখতে হবে।

পুষ্টিকর স্কুল মিল প্রোগ্রামে ন্যূনতম খাদ্য-তালিকাগত বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে দশটি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যূনতম চারটি খাদ্যগোষ্ঠী নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিদিনের স্কুল মিলের খাদ্যবৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও খাবারের স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে পুষ্টিচাল, ডাল, পুষ্টিতেল ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন মৌসুমী তাজা সবজি এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ডিম দিয়ে তৈরি করা হবে, যাতে শিশুদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার শতকরা ত্রিশভাগ ক্যালরি এবং অপরিহার্য অনুপুষ্টি-কণা, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং প্রয়োজনমতো চর্বির চাহিদা স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি, মা-বাবা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করে খাবারের মেনু বা খাদ্যতালিকা নির্বাচন করা হবে।

পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীকে স্কুল মিল কার্যক্রমের আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে

প্রশ্ন: বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কি?

উত্তর: বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মিডডে মিল প্রদানের একটি প্রকল্প।